পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা আমমোক্তার নামা দলিলের ফরমেট

 

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা আমমোক্তার নামা  দলিলের ফরমেট

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা আমমোক্তার নামা হলো একটি আইনি দলিল। যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি (দাতা) অন্য একজন ব্যক্তিকে (গ্রহীতা) তার পক্ষে কোনো কাজ করার বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনি ক্ষমতা প্রদান করেন।
 
বাংলাদেশে 'পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন, ২০১২' এবং 'পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালা, ২০১৫' অনুযায়ী এটি পরিচালিত হয়।

এটি কেন প্রয়োজন হয়?
সাধারণত নিচের পরিস্থিতিগুলোতে পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি দলিল করা হয়:
* আপনি যদি অসুস্থ থাকেন বা শারীরিকভাবে চলাফেরা করতে না পারেন।
* আপনি যদি বিদেশে অবস্থান করেন কিন্তু দেশে আপনার সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ বা বিক্রয় করতে হয়।
* আপনার যদি ব্যবসায়িক কাজে বা আইনি জটিলতায় অন্য কাউকে প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার প্রয়োজন হয়।

এটি মূলত যা যা করার ক্ষমতা দেয়:

১. সম্পত্তি কেনাবেচা বা রক্ষণাবেক্ষণ: আপনার হয়ে জমি বা ফ্ল্যাট কেনা, বিক্রি করা বা ভাড়া দেওয়া।

২. ব্যাংকিং কার্যক্রম: ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা বা লোন নেওয়ার ক্ষমতা।

৩. মামলা পরিচালনা: আদালতে আপনার পক্ষে মামলা করা বা মামলার তদারকি করা।

৪. সরকারি কাজ: খাজনা দেওয়া, নামজারি করা বা সরকারি দপ্তরে প্রতিনিধি হিসেবে যাওয়া।

একটি উদাহরণ:
ধরুন, আপনি লন্ডনে থাকেন কিন্তু বাংলাদেশে আপনার একটি জমি আছে যা আপনি বিক্রি করতে চান। এখন আপনার পক্ষে বাংলাদেশে আসা সম্ভব নয়। 
সেক্ষেত্রে আপনি আপনার কোনো বিশ্বস্ত আত্মীয়কে পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি দিতে পারেন। তখন ওই আত্মীয় আপনার হয়ে জমি বিক্রির দলিলে স্বাক্ষর করতে পারবেন এবং আইনত সেটি আপনি নিজে করেছেন বলেই গণ্য হবে। 

কিছু জরুরি সতর্কতা
যাকে পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি দিচ্ছেন, তিনি অত্যন্ত বিশ্বস্ত হওয়া জরুরি। কারণ তার ভুল বা অসাধু সিদ্ধান্তের দায়ভার দাতার ওপরও পড়তে পারে।
দলিলের মেয়াদকাল এবং ক্ষমতার পরিধি (কী করতে পারবেন আর কী পারবেন না) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিত। 

বিঃদ্রঃ: রেজিস্ট্রেশন বিহীন পাওয়ার অফ অ্যাটর্নির মাধ্যমে স্থাবর সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর বা বিক্রয় করা আইনত বৈধ নয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Ok, Go it!